বর্তমানে বিশ্বে আমরা দিন দিন আধুনিক হচ্ছি। এর পাশাপাশি আমরা নতুন অনেক রোগের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে কিছু কিছু অসুখ অনেক বেশি লক্ষ করা যায়। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ও মারাত্মক একটি রোগ হল ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিসকে সকল রোগের 'মা' বলে আখ্যায়িত করা হয়। কেননা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যাক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যাক্তির কোন রোগে আক্রান্ত হলে ভালো হতে অনেক সময় লাগে।

    ডায়াবেটিস কমানোর উপায় জেনে নিন

    ডায়াবেটিস কি?

    দেহের অতিরিক্ত গ্লুকোজ কমানো ইনসুলিনের প্রধান কাজ। খাবার খেলে দেহের প্যানক্রিয়াস এর মধ্য থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়ে থাকে। ইনসুলিন নিঃসৃত হয়ে যদি ইনসুলিনের পরিমান কমে যায় অথবা ইনসুলিন সঠিক ভাবে কাজ করতে অক্ষম হয়, তখনই আমাদের দেহে থাকা অতিরিক্ত গ্লুকোজ না কমে শরীরে থেকে যাওয়াকে ডায়াবেটিস বলে।


    ডায়াবেটিস কেন হয়?

    দেহে ইনসুলিনের উৎপাদন পর্যাপ্ত না হলেই ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। যার করনে রক্তে সুগার বেড়ে যায়। কেননা ইনসুলিন তার কাজ করতে পারে না। আমাদের রক্তে মধ্যে সুগারের পরিমান বৃদ্ধি পেলে ক্লান্তি অনুভবসহ ঘন ঘন প্রস্রাব হয়ে থাকে। এর ফলে ক্ষত স্থান শুকাতে দেরি হয়।


    ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

    ১. শরীরের ওজন স্বাস্থ্য সুস্থ্যতায় উৎপ্রেত ভাবে জরিত। ওজন ঠিক থাকলে বা ওজন ঠিক রাখতে পারলে আপনার শরীরে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা প্রায় ৭০ শতাংশ কমে যায়। শুধু ডায়াবেটিস নয়, সকল রোগের থেকে মুক্তি লাভেঅন্যতম উপায় ওজন নিয়ন্ত্রণ করা।

    ২. নিশ্চই আপনি সালাত কখনো না কখনো খেয়েছেন। কিংবা সালাত আপনার প্রিয় খাবার। প্রতিদিনই আপনি সালাত খান। সালাত বলতে আমরা শসা, টমেটো, গাজর, পেঁয়াজ, লেটুস-কে বুঝি। সালাত ডায়াবেটিসের জন্য খুব উপাকারী। তাই নিয়মিত খাবার আগে সালাদ খেয়ে নিন।

    ৩. হাঁটাহাঁটি কম বেশি সকলেই করে থাকি। আপনি কখনো কোন মানুষকে শুধু শুধু হাটতে দেখেছেন কি? তাহলে সেই লোকের হাটার কারন ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হাঁটাহাঁটি। তাই ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিনই হাটুন।

    ৪. দানাদার খাবার ডায়াবেটিসের ঝুকি কমায়। তাই নিয়মিত পরিমান মতো দানাদার খাদ্য ও সবুজ শাক সবজি খান।

    ৫. ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কফি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত কফি পানে ২৯ শতাংশ ডায়াবেটিসের ঝুকি কমে। কিন্তু অবশ্যই কফিতে চিনি দেয়া যাবে না। কেননা কফিতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক উপাদান। যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপাকারী। 

    ৬. ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে ফাস্টফুড থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। ফাস্টফুড শুধু ডায়াবেটিস নয় সব রোগেরই ঝুকি বৃদ্ধি করে। রুল, পিজ্জা ও বার্গার জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।ফাস্টফুড বেশি মাত্রায় খেলে উচ্চ কোলেস্টেরলসহ হজমে সমস্যা এবং হৃদরোগের সৃষ্টি হতে পারে।

    ৭. ডায়াবেটিস এর ঝুকি কমাতে দারুচিনির তেল বা পাউডার বানিয়ে নিয়মিত খেতে পারেন। কারন দারুচিনি দেহে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি শতকরা ৪৮ ভাগ কমিয়ে থাকে। এমনকি দারুচিনি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রন করে। আর এটি ট্রাইগ্লিসারাইড এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা কমে।

    ৮. মানসিক চাপ দেহের জন্য নানা ক্ষতি বয়ে আনে। মন ভালো না থাকলে দেহও সুস্থ্য থাকে না। মানসিক চাপের ফলে ডায়াবেটিস এর পাশাপাশি ক্যান্সারের মত ভয়াবহ রোগও হতে পারে। মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই।

    ৯. ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি চাইলে প্রথমে আপনাকে ধুমপান থেকে মুক্ত হতে হবে। ধুমপান অনেক রোগ সৃষ্টি করে। তাই সকলের উচিৎ ধুমপান ত্যাগ করা।


    ডায়াবেটিসের খারাপ দিক হল, এটি কারো হলে পুরোপুরিভাবে কখনো ভাল হয় না। ডায়াবেটিস এর লক্ষণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ জন্য কিছু নিয়ম মানলেই ডায়াবেটিস থেকে আপনি ভাল থাকতে পারবেন।